এইচএসসি বাংলা ১ম

বিড়াল প্রবন্ধ

বিড়াল প্রবন্ধ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি:
বাংলা উপন্যাসের জনক ও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ❝সাহিত্য সম্রাট❞ হিসেবেও অভিহিত হয়ে থাকেন। ❝বঙ্গদর্শন❞ নামে যে
বিখ্যাত সাহিত্যপত্রিকার তিনি প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন; বাংলা সাহিত্যের বিকাশে এবং শক্তিশালী লেখক সৃষ্টিতে তার অবদান অসামান্য।

যুগন্ধর এই সাহিত্য স্রষ্টার বিখ্যাত উপন্যাসগুলাের মধ্যে রয়েছে ❝দুর্গেশনন্দিনী❞, ❝কপালকুন্ডলা❞, ❝বিষবৃক্ষ❞ ❝কৃষ্ণকান্তের উইল❞ ❝রাজসিংহ❞ ইত্যাদি। দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) প্রথম প্রকৃত বাংলা উপন্যাস। মননশীল প্রবন্ধ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্রের অনন্য কুশলতার পরিচয় রয়েছে। তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:- ❝লােকরহস্য❞, ❝কমলাকান্তের দপ্তর❞, ❝বিবিধ প্রবন্ধ❞ ❝সাম্য❞।

বঙ্কিমচন্দ্র আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রধান সৃষ্টিশীল লেখকদের একজন। বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতকদের একজন।

লেখক সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

জন্মঃ ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দ।
মৃত্যুঃ ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দ ।
জন্মস্থানঃ পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার কাঁঠাল পাড়ায় ।
পিতাঃ যাদব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । পেশায়- ডেপুটি কালেক্টর।
ছদ্মনামঃ কমলাকান্ত ।
উপাধিঃ সাহিত্য ম্রাট।
পেশাঃ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।
সম্পাদিত পত্রিকাঃ বঙ্গদর্শন। (১৮৭২)
>বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস প্রণেতা বম্ষ্কিমচদ্র চট্টোপাধ্যায়। (দুর্গেশ নন্দিনী),
>বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমাঞ্চধর্মী উপন্যাস রচয়িতাও তিনি। (কপাল কুন্ডলা)
প্রথম রচিত উপন্যাসঃ রাজমােহনস্ ওয়াইফ (ইংরেজিতে লেখা) Rajmohons wife
বঙ্কিম চন্দ্রের ত্রয়ী উপন্যাস হলঃ- আনন্দমঠ, দেবীচৌধুরাণী, সীতারাম ।
>প্রথম কাব্য গ্রন্থঃ ললিতা তথা মানস (১৮৫৬)

বিড়াল প্রবন্ধ এর মূলভাব-

রসাত্মক ও ব্যঙ্গধর্মী রচনার সংকলন কমলাকান্তের দপ্তর। তিন অংশে বিভক্ত এই গ্রন্থটিতে যে কটি প্রবন্ধ আছে, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য রচনা
❝বিড়াল❞। একদিন কমলাকান্ত(কমলাকান্ত লেখক নিজেই।) নেশায় বুদ হয়ে ওয়াটারলু যুদ্ধ নিয়ে ভাবছিলেন। এমন সময় বিড়াল এসে কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধটুকু খেয়ে ফেলে । ঘটনাটা
বােঝার পর তিনি লাঠি দিয়ে বিড়ালটিকে মারতে উদ্যত হন। তখন কমলাকান্ত ও বিড়ালটির মধ্যে কাল্পনিক কথােপকথন চলতে থাকে। এর প্রথম অংশ নিখাদ
হাস্যরসাত্মক, পরের অংশ গূঢ়ার্থে সন্নিহিত। 

তথ্যকণিকা:-

০১। ❝কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই❞ । উক্তিটি হলাে –মার্জার (বিড়ালের)।
০২। ❝পরােপকারই পরম ধর্ম❞। উক্তিটি হলাে- বিড়াল প্রবন্ধের।
০৩। ❝অধর্ম চোরের নহে চোরে যে চুরি করে, সে অধর্ম কৃপণ ধনীর❞। উক্তিটি করে- বিড়াল।
০৪। কমলাকান্তের দপ্তর প্রকাশিত হয়- ১৮৭৫ সালে।
০৫। ❝কমলাকান্তের দপ্তর❞ গ্রন্থটি- তিন অংশে বিভক্ত।
০৬। বিড়াল প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে- ❝কমলাকান্তের দপ্তর❞ থেকে।
০৭। ❝কমলাকান্তের দপ্তর❞- রসাত্মক ও ব্যঙ্গধর্মী রচনার সংকলন।
০৮। ❝বিড়াল❞ রচনাটি একটি- রসাত্মক ও ব্যঙ্গধর্মী প্রবন্ধ।
০৯। বিড়াল প্রবন্ধ রচনা- কমলাকান্ত ও বিড়ালের কাল্পনিক কথােপকথন।
১০।  প্রথম অংশ- নিখাদ হাস্যরসাত্মক।
১১। রচনাটির দ্বিতীয় অংশ- গূঢ়ার্থে সন্নিহিত।
১২। ❝বিড়াল❞ রচনায় রয়েছে দুটি চরিত্র- মার্জার (বিড়াল) ও কমলাকান্ত।
১৩। বিড়াল রচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- দরিদ্রের বৈষম্য দূর করা।
১৪। বিড়াল খেয়ে ফেলেছে- কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ।
১৫। দুধের উপর কমলাকান্তের মতােই সমান অধিকার- বিড়ালের।
১৬। কমলাকান্ত বিড়ালকে তাড়া করেছিলেন- ভাঙা লাঠি নিয়ে।
১৭। কমলাকান্তের তাড়া খেয়ে বিড়াল- হাই তুলে সরে বসল।
১৮। মানুষ ও বিড়ালে প্রভেদ নেই- ক্ষুৎপিপাসার দিক থেকে।
১৯। দুধ ছিল- মঙ্গলার।
২০। বিড়ালের চামড়ার রং ছিল- কালাে।

২১। দুধ দুহিয়াছে- প্রসন্ন।
২২। কমলাকান্ত চারপায়ীর উপর বসে ঝিমাচ্ছিল।
২৩। কমলাকান্ত নিমীলিতলােচনে ভাবছিল- ওয়াটার লু যুদ্ধের কথা।
২৪। কমলাকান্ত ওয়েলিংটন ভেবেছে- একটি ক্ষুদ্র মার্জারকে।
২৫। কমলাকান্তের জন্য দুধ রেখে গিয়েছিল- প্রসন্ন।
২৬। কমলাকান্তের জন্য রাখা দুধ খেয়ে নিঃশেষ করেছে-বিড়াল।
২৭। বিড়ালের মতে পরােপকারই পরম ধর্ম।
২৮। বিড়ালের মতে, চোরে যে চুরি করে সে অধর্ম -কৃপণ ধনীর।
২৯। বিড়ালের মতে, সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ- ধনীর ধনবৃদ্ধি।
৩০। নেপােলিয়ন বােনাপার্ট ছিলেন- ফরাসি সম্রাট।
৩১। ওয়াটার লু যুদ্ধে নেপােলিয়নকে পরাজিত করেন- ওয়েলিংটন।
৩২। ❝দিব্যকর্ণ❞ শব্দের অর্থ- ঐশ্বরিকভাবে শ্রবণ।
৩৩। ❝কস্মিনকালে❞ শব্দের অর্থ- কোনাে সময়ে।
৩৪। ❝বিড়াল❞ রচনায় বিড়াল- “সােশিয়ালিস্টিক”, “সুবিচারিক”, “সুতার্কিক”।

৩৫। কার ক্ষুধা কেউ বােঝে না? – দরিদ্রের ক্ষুধা।
৩৬। বিড়ালের দৃষ্টিতে কমলাকান্ত – দূরদর্শী প্রকৃতির।
৩৭। বিড়াল কমলাকান্তকে প্রহার না করে কী করতে বলে- প্রশংসা করতে বলে।
৩৮। ❝বিড়াল❞ রচনায় কাকে সুবিচারক বলা হয়েছে?- বিড়ালকে।
৩৯। ক্ষুদ্র আলাে – মিট মিট করে জ্বলছিল।
৪০। ❝বিড়াল❞ রচনায় কাকে সুতার্কিক বলা হয়েছে?- বিড়ালকে।
৪১। মার্জারের প্রশ্ন বুঝতে পেরে কমলাকান্ত কী ত্যাগ করলেন?- যষ্টি ত্যাগ করলেন।
৪২। ❝তােমাদের ক্ষুৎপিপাসা আছে আমাদের কি নাই?❞ প্রশ্নটি কার- বিড়ালের।
৪৩। ❝বিড়াল❞ রচনায় ❝পতিত আত্মা❞ বলা হয়েছে যাকে- বিড়ালকে।
৪৪। কমলাকান্তের প্রতি মার্জারীর প্রথম উপদেশ হল—পরােপকারই ধর্ম।
৪৫। বিড়ালের কথা ছিল – সমাজতান্ত্রিক।
৪৬। রচনায় মেও শব্দটি -১৩ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
৪৭। তেলা মাথায় তেল দেওয়া অর্থ – তােষামােদ করা।
৪৮। ❝আমি যদি নেপােলিয়ন হইতাম, তবে ওয়াটার্ল জিতিতে পারিতাম কিনা।❞ উক্তিটি হলাে- কমলাকান্তের।
৪৯। ❝সামাজিক ধনবৃদ্ধি ব্যতীত সমাজের উন্নতি নাই❞, উক্তিটি করেন- কমলাকান্ত, বিড়ালকে উদ্দেশ্য করে।

৫০। ❝আমি যদি খাইতে না পাইলাম, তবে সমাজের উন্নতি লইয়া কী করিব?❞- উক্তিটি করে বিড়াল, কমলাকান্তকে উদ্দেশ্য করে।
৫১। ❝বিজ্ঞ চতুষ্পদের কাছে শিক্ষালাভ ব্যতীত তােমাদের জ্ঞানােন্নতির উপায়ান্তর দেখি না❞। উক্তিটি করে- বিড়াল, কমলাকান্তকে উদ্দেশ্য করে।
৫২। ❝তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রােগ❞ উক্তিটি- বিড়াল গল্পের, বিড়াল নিজে উক্তিটি করে।
৫৩৷ কমলাকান্ত বিড়ালকে কাদের গ্রন্থ দিতে চাইলেন?- নিউমান ও পার্করের গ্রন্থ দিতে চাইলেন।
৫৪। কমলাকান্ত বিড়ালকে কতটুকু আফিং দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন? – সরিষাভাের আফিং দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন।
৫৫। কমলাকান্তের দপ্তর পড়লে বিড়াল কী বুঝতে পারবে?- আফিং এর অসীম মহিমা বুঝতে পারবে।
৫৬। বিড়ালের প্রতি পুরুষের ন্যায় আচরণ করা বিধেয়-এর দ্বারা বুঝানাে হয়েছে- প্রথাগত আচরণ।
৫৭। ❝কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই❞ এই প্রবাদের মমার্থ হলাে- নিজের পরিশ্রমের ফল অপরে বিনা পরিশ্রমে আত্মসাৎ করে।

বিড়াল প্রবন্ধ -এর শব্দার্থ

» চারপায় – টুল বা চৌকি।
» প্রেতবৎ – প্রেতের মতাে।
» ডিউক – ইউরােপীয় সমাজের বনেদি বা অভিজাত ব্যক্তি।
» ব্যুহ রচনা – প্রতিরােধ বেষ্টনী তৈরি । যুদ্ধের জন্য সৈন্য সাজানাে।
» মার্জার – বিড়াল।
» যষ্টি – লাঠি।
» শিরােমণি – সমাজপতি।
» ন্যায়ালংকার – ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত ব্যক্তি।
» ভার্যা – স্ত্রী বা বউ।
» সরঞ্চ খেলা – নিচে বিছিয়ে যে খেলা খেলতে হয়; পাশা খেলা, দাবা খেলা।
» লাঙ্গুল – লেজ, পুচ্ছ।
» সােশিয়ালিস্টিক – সমাজতান্ত্রিক, সমাজের সবাই সমান।
» নৈয়ায়িক – ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত ব্যক্তি।
» জলযােগ – হালকা খাবার।
» পতিত আত্মা – বিপদগ্রস্ত বা দুর্দশাগ্রস্ত আত্মা।
» নিমীলিতলােচনে – মুদিত নয়নে।
» পরিদৃশ্যমান – সুস্পষ্ট।
» প্রকটিত- প্রকাশিত।
» ওয়েলিংটন – বীর যােদ্ধা তিনি ডিউক অফ ওয়েলিংটন নামে পরিচিত (১৭৬৯-১৮২১)। ওয়াটার লু যুদ্ধে তাঁর হাতে নেপােলিয়ন পরাজিত হন।
» নেপােলিয়ন – ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন বােনাপার্ট (১৭৬৯-১৮২১) প্রায় সমগ্র ইউরােপে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন । ১৮১৫খ্রিস্টাব্দে
ওয়াটার লু যুদ্ধে ওয়েলিংটনের ডিউকের হাতে পরাজিত হয়ে তিনি সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button