ICT

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি

প্রশ্নঃ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি?

উত্তরঃ বাস্তব নয় তবে বাস্তবতার বিভ্রম সৃষ্টিকারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাই হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ? বিস্তারিত…

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬১ সালের মর্টন এল হেলিগ এর তৈরি সেন্সোরামা স্টিমুলেটর নামক যন্ত্রের মাধ্যমে প্রথম ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

সায়েন্স ফিকশন গল্প বা সিনেমাগুলোতে প্রায়ই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কথা পাওয়া যায়। ভার্চুয়াল হচ্ছে এমন একটা কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক (3D) পরিবেশ যেটা একজন মানুষের কাছে পুরোপুরি বাস্তব মনে হবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কল্যাণে ইচ্ছা করলে মহাসাগরের গভীরে, মহাকাশ ভ্রমণ করা এমনকি অতিকায় ডাইনোসরকে দেখতে ইচ্ছা করলে তাও সম্ভব। আমরা চারপাশে যা কিছু দেখি সবই ত্রিমাত্রিক আর বর্ণময়।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কীভাবে কাজ করে?

কল্পবাস্তব জগতে ত্রিমাত্রিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য নেওয়া হয় দুটি ত্রিমাত্রিক কাঁচের। একটিতে থাকে লাল রঙ্গের ফিল্টার আর অন্যটিতে থাকে নীল রঙ্গের ফিল্টার। কম্পিউটারের মাধ্যমে তোলা ইমেজ, দুটি লাল ও দুটি নীল বর্ণের ফিল্টারের মধ্যে দৃশ্যমান হয়। দর্শকের মস্তিষ্ক তখন ইমেজ দুটিকে পুনরায় সমন্বয়কারী করে বস্তুর ত্রিমাত্রিক ইমেজের ধারণা লাভ করে।

যখন কোনো মানুষকে পাইলট হওয়ার ট্রেনিং দেওয়া হয়, তখন প্রথমে তাকে প্লেনে চড়িয়ে প্লেন নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। তাকে প্রথমে একটা বিশেষ ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেটি দেখতে হুবহু প্লেনের ককপিটের মতো, এমনকি পাইলটের সিটে বসলে সামনের কাঁচ দিয়ে যে রকম দৃশ্য দেখতে পাওয়ার কথা, সেই রকম কৃত্রিম দৃশ্যও দেখতে পায় সামনের পর্দায়। অর্থাৎ একজন পাইলট প্লেন চালালে তার কাছে যেরকম অনুভূতি হবে, সেই বিশেষ ঘরে বসে যে লোক প্লেন চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, তারও ঠিক একই অনুভূতি হবে। এই ধরনের ব্যবস্থাকে বলা হয় “ফ্লাইট সিম্যুলেটর” এর ফলে কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই কম খরচে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সিম্যুলেটর হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার নির্ভর সিস্টেম, যা বাস্তব অবস্থার অবিকল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রশ্নঃ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জনক কে?

উত্তরঃ ১৯৬১ সালের মর্টন এল হেলিগ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আবিষ্কার করেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ? সহজ ব্যাখ্যা

কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, যেখানে ব্যবহারকারী ঐ পরিবেশ মগ্ন হতে, বাস্তবের অনুকরণে সুষ্ট দৃশ্য উপভোগ করতে, সে সাথে বাস্তবের ন্যায় শ্রবণনুভূতি এবং দৈহিক ও মানসিক ভাবাবেগ, উত্তেজনা অনুভূতি প্রভৃতি দ্বারা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে অসম্ভব স্থানেও ভ্রমণ করা যায়। যেমন আপনি চাঁদে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন, সাগরের গভীরে সাঁতারের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন ইত্যাদি।

আরো পড়ুনঃ বায়োমেট্রিক্স কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button